
সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার সিলেট জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে ভাষাগত দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আরবি, জাপানি ও কোরিয়ান ভাষা শেখার সুযোগ বৃদ্ধি করা গেলে বিদেশে চাকরির সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। জাপান, মালয়েশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দক্ষ কর্মীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যা পূরণে তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু সাধারণ শ্রমিক হিসেবে নয়, প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মী হিসেবেই বিদেশে যেতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে। বিশেষ করে জাপান, মালয়েশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দেশগুলোতে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এসময় সিলেট জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। শুক্রবার বিকেলে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক অসহায়, দরিদ্র ও জুলাই যোদ্ধাসহ পিছিয়ে পড়া মানুষের হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, জেলা পরিষদের এই উদ্যোগ প্রান্তিক মানুষের অভাব দূর করতে এবং তাদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে। আমরা চাই দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার সুফল পায়।
জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপমা দাস ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামারুজ্জামান মাসুমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার সিংহ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম। এছাড়া বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ আহমদ চৌধুরী এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিমসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের হাতে অনুদানের চেক বিতরণ করেন।
অনুদান পেয়ে উপস্থিত সাধারণ মানুষ জেলা পরিষদের এই উদ্যোগের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।




